বিশেষ-প্রতিবেদন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিচালকের পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ।অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পর এসব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন সায়মা ওয়াজেদ।

গত বুধবার তিনি সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসের কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

তার বিরুদ্ধে মূলত চীন ভ্রমণে আর্থিক অনিয়ম ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, যা বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বাধীনভাবে তদন্ত করছে।

গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়। একই ধারাবাহিকতায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করলে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তাকে প্রথম অবৈতনিক ছুটিতে পাঠায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এর পর থেকে পদত্যাগের আগপর্যন্ত তিনি অবৈতনিক ছুটিতেই ছিলেন।

তথ্য অনুযায়ী, ডব্লিউএইচও তার বিরুদ্ধে চীন সফরকে কেন্দ্র করে আর্থিক প্রতারণা, শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য প্রদান এবং বাংলাদেশে অবৈধভাবে একটি জমির প্লট অধিগ্রহণের অভিযোগ এনেছে। গত ৩ জুলাই তার আইনজীবীদের পাঠানো এক চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, জমির প্লটটি তিনি ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই এবং শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় অধিগ্রহণ করেছিলেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ লিখেছেন, ‘আমি আমার অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার জন্য আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছিলাম, যা আমি আন্তরিকতার সঙ্গে করে এসেছি।’

পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ আরও লিখেছেন, ‘যেহেতু আপনি দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে আমাকে বাধা দিয়ে চলেছেন, তাই ডব্লিউএইচতে আপনার নেতৃত্বের ওপর আমার সব আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে গেছে। এ ছাড়া আপনার বেতন ছাড়া ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের পর প্রায় এক বছর কোনো পারিশ্রমিক না পাওয়ায় আমার আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আমি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন। এই যোগ্যতার বিষয়টি তিনি ডব্লিউএইচওর প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসকে জানিয়েছিলেন।

বাংলাদেশ ও ভারতসহ এই অঞ্চলের সদস্য দেশগুলো প্রতি পাঁচ বছর অন্তর ভোটের মাধ্যমে তাদের আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচন করে।

Related Articles

Back to top button